বিশেষ প্রতিনিধি::
সুনামগঞ্জের হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় সময় বৃদ্ধির আবেদনের প্রস্তুতি নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এ বিষয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি চিঠি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পাউবো’র সঙ্গে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়হীনতা, পিআইসি অনুমোদন ও গঠনে বিলম্ব, পিআইসি অনুমোদনে ঘুষের জন্য অপেক্ষাসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে এবার নির্ধারিত ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হাওরের কাজ শেষ হচ্ছে না। ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সরকারি হিসেবে ৭৫ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে বলা হলেও বাস্তবে অর্ধেক কাজও শেষ হয়নি বলে জানিয়েছে হাওরের কৃষক ও কৃষক আন্দোলনে জড়িতরা।
জানা গেছে, চলতি বছর জেলায় প্রায় ১৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে হাওরের ফসল রক্ষায় ৭০২টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এসব প্রকল্পে নীতিমালা উপেক্ষা করে, অনেক স্থানে গণশুনানী না করে প্রকল্প গ্রহণ ও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ আছে। অক্ষত প্রকল্পে বিপুল বরাদ্দসহ অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পেও বিপুল বরাদ্দ দিয়ে সরকারি বরাদ্দ হরিলুটের অভিযোগ আছে। সুনামগঞ্জ হাওর বাঁচাও আন্দোলন, সুনামগঞ্জ পরিবেশ ও নদী রক্ষা আন্দোলন, সুনামগঞ্জ হাওর, নদী ও পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন, জনউদ্যোগসহ নানা সংগঠন সরেজমিন হাওর ঘুরে কাজে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ করেছে। তারা সাংবাদিক সম্মেলন, মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছে।
এদিকে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির বিজয়ী এমপি কামরুজ্জামান কামরুল তার নির্বাচনী এলাকার অন্তত ২০টি ফসলরক্ষা বাঁধ পরিদর্শন করে ক্ষোভ জানিয়েছেন। কাজের মান, ধীরগতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশনা দিয়েছেন। না হলে হাওরের ফসলহানির আশঙ্কা করেছেন তিনি। এসময় বাঁধের কাজ শেষ না হওয়া, বাঁধে কমপেকশন না করা, ক্লোজারের কাজ শেষ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হাওরে ৭৫ ভাগ মাটির কাজ শেষ হয়েছে। ১১০টি ক্লোজারের ৮৫ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। তবে এই পরিসংখ্যানকে জালিয়াতি বলছেন হাওর আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ। তারা বলেছেন, এখনো অর্ধেক কাজ শেষ হয়নি। দিরাই, শাল্লা, তাহিরপুর, জগন্নাথপুর, জামালগঞ্জ, শান্তিগঞ্জসহ কয়েকটি উপজেলায় অনুমোদিত প্রকল্পে কাজই শুরু হয়নি।
শাল্লা উপজেলা কৃষকদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক একরামুল হোসেন বলেন, ফসলরক্ষা বাঁধের বিভিন্ন কমিটি গঠনে জেলা প্রশাসক পক্ষপাতিত্ব করেছেন। বিএনপির কৃষক আন্দোলন ও কৃষকদের বঞ্চিত করে অন্যান্য দলের পদবীধারীদের তিনি জেলা ও উপজেলা কমিটিতে স্থান দিয়েছেন। বিভিন্ন স্থানে পছন্দের লোকদের পিআইসি দিতে তিনি অধস্তনদের বলেছেন। তাই কমিটি গঠন ও অনুমোদনে স্বজনপ্রীতি হয়েছে।
হাওর, নদী ও পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, আমরা সরেজমিন কয়েকটি উপজেলা ঘুরে দেখেছি কাজের মান খুবই খারাপ। এখনো কাজ শুরু হয়নি কিছু প্রকল্পে। অক্ষত বাঁধে বিপুল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পে বরাদ্দ দিয়ে প্রকৃতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুতদার বলেন, হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজে জেলা প্রশাসন ও পাউবো’র সমন্বয় নেই। নানাভাবে সরকারি বরাদ্দ নয়ছয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাঁধের কাজে মনোযোগ না দিয়ে ঘুষ লেনদেনে জড়িত সংশ্লিষ্ট অনেকেই। তাই কাজে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা দেখা গেছে। কাজ শুরু ও শেষ করতে বিলম্ব হয়েছে। এসব কারণে এখন ঝুঁকিতে আছে হাওরের ফসল।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী, কাবিটা মনিরিং ও বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যসচিব মামুন হাওলাদার বলেন, ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ হচ্ছে না। তাই ২৫ ফেব্রুয়ারি সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন করা হবে। কাজ দ্রুত শেষ করতে পিআইসিদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এসব বিষয়ে জানতে জেলা প্রশাসক ও কাবিটা কমিটির সভাপতি ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়ার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি কল রিসিভ করেননি।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
নির্ধারিত সময়ে শেষ হচ্ছে না বাঁধের কাজ সময় বাড়াতে চিঠি প্রস্তুত করছে পাউবো
- আপলোড সময় : ২৪-০২-২০২৬ ০৯:০৩:৩৬ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৪-০২-২০২৬ ০৯:০৫:১২ অপরাহ্ন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

বিশেষ প্রতিনিধি